খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জানুয়ারি ২০১৫, ৩:১৬ পিএম
আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় পটুয়াখালী জেলার উপজেলাগুলোর পরিচয়। পটুয়াখালী জেলা বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় জেলা। ভৌগোলিক অবস্থান, নদী-নালা, চরাঞ্চল, কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন সম্ভাবনার কারণে পটুয়াখালী জেলার প্রতিটি উপজেলা নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ।
বর্তমানে পটুয়াখালী জেলায় মোট ৮টি উপজেলা রয়েছে। প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা এবং পটুয়াখালী জেলার সদর দপ্তর। পটুয়াখালী বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন শহর ও পৌর এলাকা। এটি দক্ষিণাঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় জেলা ও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর হিসেবে পরিচিত।
১৯৬৯ সালে পটুয়াখালী জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তখন থেকেই সদর উপজেলা প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ভৌগোলিক অবস্থান
এই উপজেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা পরিষদ, আদালত, মেডিকেল কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর অবস্থিত।
দুমকি উপজেলা বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা। এটি কৃষি-নির্ভর উপজেলা হিসেবে পরিচিত এবং এখানকার উর্বর ভূমিতে ধান, ডাল, সবজি ও তেলবীজের চাষ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে।
ভৌগোলিক অবস্থান
দুমকী উপজেলায় লেবুখালী নৌবন্দর এবং পায়রা সেতু সংলগ্ন এলাকা থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
বাউফল উপজেলা বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার অন্তর্গত একটি বৃহৎ ও জনবহুল উপজেলা। এটি জেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ভৌগোলিক অবস্থান
বাউফল উপজেলার আয়তন ৪৮৭.১০ বর্গ কিলোমিটার। এখানে একটি পুলিশ স্টেশন অবস্থিত। কৃষি, মৎস্য ও নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা এ উপজেলার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি।
দশমিনা উপজেলা বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় উপজেলা।
সীমানা
দশমিনা উপজেলা নদী ও চরাঞ্চলসমৃদ্ধ এবং এখানকার মানুষ প্রধানত কৃষি ও মৎস্যনির্ভর জীবিকা নির্বাহ করে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা পটুয়াখালী জেলার একটি ঐতিহাসিক প্রশাসনিক এলাকা। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এখানে একসময় মির্জা জমিদারদের এস্টেট ছিল। তারা শিক্ষা, ধর্মীয় কার্যক্রম ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মির্জাগঞ্জ উপজেলার নামকরণ মির্জা জমিদারদের নামানুসারেই হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
গলাচিপা উপজেলা পটুয়াখালী জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় উপজেলা।
ভৌগোলিক অবস্থান
গলাচিপা উপজেলা নদী, খাল ও চরাঞ্চলে ঘেরা এবং এখানকার মানুষ প্রধানত কৃষি ও মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত।
কলাপাড়া উপজেলা, যা খেপুপাড়া নামেও পরিচিত, পটুয়াখালী জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা এই উপজেলায় অবস্থিত।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
এখানে দেশের চারটি রাডার স্টেশনের একটি অবস্থিত। ১৯৭৬ সালে বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সুবিধা চালু হয়।
রাঙ্গাবালী উপজেলা পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের পাদদেশে অবস্থিত একটি উপকূলীয় উপজেলা।
ভৌগোলিক অবস্থান
রাঙ্গাবালী উপজেলা চরাঞ্চল, জাহাজমারা সৈকত, তুফানিয়ার চরসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত।

পটুয়াখালী জেলার প্রতিটি উপজেলা ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, ইতিহাস, কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন সম্ভাবনার কারণে অনন্য। এসব উপজেলা সম্মিলিতভাবে পটুয়াখালী জেলাকে দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করেছে।
মন্তব্য